বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ১.৫%

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম গত মার্চের পর প্রথমবারের মতো বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামে পণ্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে এপ্রিলে পরপর দুটি নিলামে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ দাম কমেছিল। মূলত জাহাজভাড়া বৃদ্ধি ও লজিস্টিক খাতের অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ার ক্রেতারা আগেভাগেই পণ্য মজুদ করতে শুরু করেছেন। এই বাড়তি চাহিদাই বাজারে দাম বাড়ার প্রধান কারণ। খবর ফারমার্স উইকলি, এগ্রিল্যান্ড ও আইরিশ ফারমার্স জার্নালস।

সর্বশেষ নিলামের বরাত দিয়ে দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, জিডিটি মূল্যসূচক এখন ১ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার ১৯৬। বর্তমানে দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৭৪১ ডলারে।

এবারের নিলামে দাম বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে গুঁড়া দুধ ও মোজারেলা চিজ। খামারিদের দেয়া দুধের দাম নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ বা হোল মিল্ক পাউডার (ডব্লিউএমপি)। পণ্যটির দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৭৪১ ডলারে পৌঁছেছে। ননিছাড়া গুঁড়া দুধ বা স্কিমড মিল্ক পাউডারের (এসএমপি) ক্ষেত্রে দাম ৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৫৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চর্বিহীন দুধের চাহিদা বাড়ায় ডব্লিউএমপি ও এসএমপির দামের ব্যবধান কমে এসেছে।

বাটার মিল্ক পাউডারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মোজারেলা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ল্যাকটোজ ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে মাখনের (বাটার) দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫২৫ ডলারে নেমেছে। চেডার চিজের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইউরোপীয় মাখনের দরপতন। বিশ্ববাজারের গড় দামের চেয়ে ইউরোপীয় মাখনের দাম এখন প্রায় ১ হাজার ডলার কম।

নিলামের বাইরে বর্তমানে বিশ্ব দুগ্ধবাজারের অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পণ্য পরিবহন খরচ বা জাহাজভাড়া। ই-ডেইরি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমদানিকারকরা দ্রুত পণ্য কেনা শুরু করেছেন। জাহাজভাড়া বেড়ে গেলে লভ্যাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ব্যয় বাড়ার আগেই অনেক আমদানিকারক প্রয়োজনীয় পণ্য আগেভাগে বুকিং দিচ্ছেন।

বর্তমানে লজিস্টিক খাতের মূল্যস্ফীতি দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ফলে জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ছে, যা পরোক্ষভাবে খাদ্য উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত এক বছরে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দাম দ্বিগুণ হয়েছে এবং জাহাজভাড়ার সূচক ‘বাল্টিক ড্রাই ইনডেক্স’ প্রায় ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাহিদা কিছুটা কমেছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাড়তি চাহিদা সে ঘাটতি পূরণ করে দিচ্ছে। পরিবহন খরচ নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই এসব দেশের ক্রেতারা ভবিষ্যৎ অর্ডারগুলো নিশ্চিত করতে চাইছেন। ফলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এখন শুধু পণ্যের দাম নয়, বরং তা গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত মোট খরচকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আরও